• Home
  • Bangla
  • আপনি কাজের জায়গায় সত্যিই নিজের মত হতে পারেন?

আপনি কাজের জায়গায় সত্যিই নিজের মত হতে পারেন?

আপনি কাজের জায়গায় সত্যিই নিজের মত হতে পারেন

আপনি যদি বেশিরভাগ লোকেদের মত হন, তাহলে আপনি কাজের জায়গায় কমপক্ষে একটা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন যেখানে আপনি ভাবতে থেকেছেন।  “আমার কেমন ব্যবহার করা উচিত?” “আমি কি এই পরিস্থিতিতে নিজের মত হতে পারি নাকি আমার একটা নির্দিষ্ট ভাবে অভিনয় করা উচিত?” এই ধরণের পরিস্থিতি দিয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জিং হতে পারে এবং একটা আগে থেকেই চাপের চাকরির অভিজ্ঞতাকে এটা যতটা কঠিন – বা যতটা কঠিন হওয়া উচিত তার চেয়ে আরো বেশি কঠিন করে তুলতে পারে।  

অনেক পেশাদাররা অনুভব করেন যে তাদের দু-রকমের চরিত্র আছে।  একটা দিক আছে যে প্রত্যেকদিন সকালে মীটিং-এ, ফিল্ডের প্রশ্নে বসার জন্য সুট বা ইউনিফর্ম পরে, এবং হুপসের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময়ে সুন্দর ভাবে হাসে।  তারপর, আর একটা দিক আছে যে পরিবার, বন্ধু এবং উইকেন্ডসের জন্য এইসব ঝেড়ে ফেলে।  

এটা একটা দুর্ভাগ্যজনক অভ্যাস যেটার মধ্যে আমরা সবাই পড়ে গিয়েছি যেটা কাজের জায়গায় শুধু আমাদের একটা অংশকে নিয়ে আসে।  একমাত্র সমস্যাটা হলো এই যে আপনি শুধুমাত্র নিজেকে সংক্ষিপ্ত করে রাখছেন না বরং আপনার ক্যরিয়রকেও।  

আপনার নিজস্ব ব্যক্তিসত্তাকে সত্যি রাখেনা এমন একটা ছবি তৈরী করে রাখাটা শেষ পর্যন্ত আপনার ভাল থাকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।  এবং আপনি যদি কাজের জায়গায় খুশি না থাকেন, তাহলে আপনি যতটা উত্পাদক হতে পারতেন ততটা হতে পারেন না – সফলতা পাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় নয়। 

আপনাকে প্রত্যাখ্যান পাওয়ার ইচ্ছা রাখতে হবে 

আপনি সত্যিকারের আপনিটাকে কোথাওই দেখাতে পারবেন না, যদি আপনি প্রত্যাখানের ঝুঁকি নিতে না চান। আপনি যদি প্রত্যাখান থেকে ভয় পান এবং সুরক্ষার প্রক্রিয়া হিসাবে কাজের জায়গায় যদি একটা মুখোশ পোরে থাকেন, তাহলে আপনাকে এটা খোলার ইচ্ছা রাখতে হবে, অন্তত একটুখানি। 

আমরা একটা মুখোশ পরে থাকতে পারি বা কাজের জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিকে – সত্যি নিজেকে নয় – পাঠাতে পারি, কারণ তাহলে আপনার সমালোচনার অভিজ্ঞতা হলে, সমালোচনাটা তার হবে। কিন্তু যতক্ষণ আমরা কাজের জায়গায় নিজের প্রতিনিধিকে পাঠাচ্ছি বা একটা মুখোশ পোরে থাকছি আমরা সবসময় অনুভব করব যে আমরা নিজের মত হতে পারব না। ইচ্ছাটা দেখতে পাওয়া প্রয়োজন। আমি ভয়টা বুঝতে পারি এবং আপনাকে প্রথমে একটু সাহস সঞ্চয় করতে হতে পারে, কিন্তু এটা আপনার ক্যরিয়রের জন্য উপযুক্ত হবে। লোকে সচেয়ে বেশি সম্ভব সত্যি আপনিটাকেই পছন্দ করবে। 

পরিস্থিতি স্মার্ট হবেন 

সত্যি সফল কর্মচারীরা অবশ্যই  তাদের নির্দিষ্ট কাজের পরিবেশের অনন্য “খুঁটিনাটিগুলো” শেখার উদ্দেশ্য রাখেন।  একবার আপনি আপনার কাজের পরিস্থিতির ভাল নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে, আপনি সবচেয়ে ভাল ভাবে বুঝতে পারেন যে কখন এবং কোথায় আপনি সত্যি আপনিটা হতে পারেন।  আপনি কি একজন হালকা বা ফুরফুরে কর্মচারী যিনি মুখো-মুখী কথোপকথন এবং কাজ-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সময়ে কি একটা ক্যাজুয়াল টোন পছন্দ করেন? 

যদি তাই হয়, তাহলে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে আপনার সহকর্মীদের মধ্যে কে কে এই স্টাইলে সবচেয়ে ভাল কাজ করেন এবং আত্মবিশ্বাসী অনুভব করুন যে আপনি ওনাদের সঙ্গে ডীল করার সময়ে আপনার “সত্যি নিজস্বতাটা” রাখতে পারেন।  

প্রকাশ করার কারণটা বিবেচনা করুন 

কোনো ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে, আপনার এটা প্রকাশ করার কারণগুলোকে মেপে নেবেন।  এটার কি আপনার হাতের কাজের সঙ্গে সম্পর্ক আছে? এটা কি ওই কাজটার অগ্রগতি হতে সাহায্য করবে? আপনি কি বিশ্বাস অর্জন করতে বা বেশি ভাল সহযোগিতাকে উত্সাহ দিতে চেষ্টা করছেন? 

নিজের ব্যাপারে ব্যক্তিগত গল্প প্রকাশ করাটার কাজের জায়গায় বন্ধু তৈরী করা ছাড়া কোনো কারণের জন্য হওয়া উচিত।  এটা অনেক সময়তেই সহকর্মীদের জানতে পারার উপজাত।  

নিজেকে প্রশ্ন করুনআপনার কে হওয়া উচিত? 

আমরা নিজেদের কেমন হওয়া উচিত বলে ভাবি, সেটা আমাদের নিজেদের বলা একটা বড় গল্প হতে পারে, সত্যি নয়।  কারুর আমাদের জোর করে না ঢুকিয়ে দেওয়া সত্তেও আমরা নিজেদের একটা বক্সে লক করে রেখেছি।  আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়ে আপনার নিজেকে – আপনার চিন্তা-ভাবনা, মতামত, প্রয়োজন, কাজের স্টাইল, ইত্যাদি সহ – দেখানোর অনেক বেশি জায়গা থাকতে পারে।  

আরো কাছ থেকে দেখুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন “আমাকে কি সত্যিই এরকম হতে হবে/ এটা এই ভাবে করতে হবে? এই সব কিছু অন্য ভাবে করার কি আমার কোনো নমনীয়তা আছে?” কিছু জিনিসের জন্য উত্তরটা না হতে পারে, এবং এখানে উত্তরটা হ্যাঁ সেখানে শুরুতে সত্যিকারের পরিবর্তন আনাটা ভয়াবহ হতে পারে, কিন্তু প্রতিফলিত হওয়াটা এবং আপনার বিকল্পগুলো অনুভব করাটা উপযুক্ত।  

সীমাগুলোকে সম্মান দেবেন 

একটা বিষয় বন্ধদের সঙ্গে সীমার বাইরে নয় মানেই এটা নয় যে কাজের জায়গাতেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়।  আপনি যদি সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুর মতও অনুভব করেন, তাও রাজনীতি এবং ধর্ম দুটোর থেকেই পরিষ্কার ভাবে দূরে থাকুন।  আপনি আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় বা আপনার কাজের সময়ের বাইরের কোনো কাজের ব্যাপারও আপনি আপনার সহকর্মীদের কাছে এড়িয়ে চলতে পারেন।  

যখন আপনি কাজের জায়গায় নিজের বেশিটা আনেন না, তখন আপনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও হারাতে পারেন।  ক্লায়েন্টরা, উদাহরণ স্বরূপ, আপনার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ করতে পারেন না যদি আপনি নিজেকে অতিরিক্ত গুটিয়ে রাখেন।  আপনি ভূয় বা কিছু লুকোনোর চেষ্টা করছেন হিসাবে প্রতিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিও নিয়ে ফেলতে পারেন, যাতে আপনি সেলস/বিক্রি বা উত্পাদনের লক্ষ্য হারাতে পারেন এবং টাকা খোয়াতে পারেন।  

একবার আপনি কাজের জায়গায় নিজের বেশিরভাগটা নিয়ে আসতে পারলে, উজ্জ্বল না হয়ে ওঠাটা মুশকিল হয়ে যায়।  একজনের নিজের কাছে সত্যি থাকাটা অনেকসময়েই অনেক ক্যরিয়রের উন্নতি হওয়ার কারণ যেখানে অন্যরা কষ্ট করে।  

এজজবস অ্যাপটা একটা বিনামূল্যে-ব্যবহার-করার চাকরির প্ল্যাটফর্ম যেটা নিয়োগকারীদের এবং প্রার্থীদের স্থানীয়, আংশিক-সময়ের এবং সীজনাল চাকরির জন্য যোগাযোগ করায়। আপনি আজকেই এজজবস অ্যাপটা ডাউনলোড করে তক্ষুনি আপনার চারপাশে চাকরি খুঁজে পেতে পারেন। 

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *